মিথস্ক্রিয়া কি? সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কি? শ্রেণিকক্ষে মিথস্ক্রিয়া কি?

মিথস্ক্রিয়া কি?

একে-অপরের আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং আচরণগত বৈচিত্র্যের পারস্পরিক ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়াকে মিথস্ক্রিয়া বলে। ব্যক্তি নিজ আচরণ দ্বারা অন্যদের প্রভাবিত করে এবং অন্যদের আচরণ দ্বারা নিজেও প্রভাবিত হয়। আচরণগত এই পারস্পরিক প্রভাবের প্রতিক্রিয়াই মিথস্ক্রিয়া।

মানুষ প্রয়োজনে একত্রিত ভাবে সমাজে বসবাস করে, তাই মানুষ হল সমাজবদ্ধ জীব। সমাজে একসাথে বসবাসের তাগিদে মানুষ বিভিন্ন সংঘ, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গড়ে তোলে। এগুলির মধ্য দিয়ে সমাজের গোষ্ঠীগত নিয়মবিধি অনুষ্ঠিত হয় এবং মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন চরিতার্থ হয়। এর ফলে গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ শৃঙ্খলিত আচার-আচরণে বাধ্য থাকে। সমাজবদ্ধ জীবনধারায় একের আচরণে বা প্রবৃত্তিতে অন্যের আচরণ প্রভাবিত হয়। এই অন্যের পারস্পরিক আচরণগত এই প্রভাব- প্রক্রিয়াকে আমরা মিথস্ক্রিয়া (Social Interaction) বলি।

সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কি?

অধ্যাপক গিলিন বলেন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হল সামাজিক সংস্পর্শ স্থাপন। এইজন্য সংস্পর্শ বা নৈকট্যের প্রয়োজন হয় না।

অধ্যাপক গ্রীন বলেন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া হল ব্যক্তি ও গোষ্ঠীসমূহের পারস্পরিক সমস্যার সমাধান ও লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে পারস্পরিক প্রভাব বিস্তার।

আবার অধ্যাপক পার্ক ও বার্জেস বলেন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া হল ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির, গোষ্ঠীর সঙ্গে গোষ্ঠীর দ্বৈত আচরণ।

অতএব, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বলতে সামাজিক আচার আচরণের এমন একটি নির্দিষ্ট রূপকে বোঝায়, যার দ্বারা সমাজবদ্ধ মানুষ পারস্পরিক সংস্পর্শে এসে একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং মানসিক সম্পর্ক স্থাপন করে।

শ্রেণিকক্ষে মিথস্ক্রিয়া কি?

শ্রেণিকক্ষে মিথস্ক্রিয়া হল শ্রেণীকক্ষ ও এর বাহিরে শিক্ষক এবং ছাত্রদের মধ্যে একটি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বা বিকাশ। এটি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষা দক্ষতা-কথা বলা এবং শোনা বিকাশে খুবই সহায়ক। শিক্ষার্থীদের নিজস্ব শেখার পদ্ধতি সনাক্ত করতে সহায়তা করে। তাদের সমবয়সীদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে শিক্ষার্থীদের গাইড করে।